মেজর রাহাত উইকি পেজে আপনাকে স্বাগতম

‘‘কেউ জানত না বাংলাদেশ কাউণ্টার ইণ্টেলিজেন্সের সুযোগ্য কর্ণধার কাঁচাপাকা ভুরুর অধিকারী গুরুগম্ভীর ওই ছিমছাম ঋজু ব্যক্তিত্ববান চাপা মানুষটির আসল রূপ অতীত বীরত্বের কাহিনী।
বিপদেই মানুষের সত্যিকার পরিচয়।
স্বরূপে আত্মপ্রকাশ করবে এবার বাঙালি যুবক...’’.
মাসুদ রানার বস, মেজর জেনারেল রাহাত খান (অবঃ)-কে চেনেন না, এমন পাঠক বোধহয় কেউ নেই। প্রতিনিয়ত রানাকে একের পর এক দুঃসাধ্য মিশনে পাঠাচ্ছেন তিনি, দিচ্ছেন প্রায় অসম্ভব একটার পর একটা কাজ... নির্দ্বিধায়। এসব দেখে পাঠকের মনে প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক - কে এই লোক? কোন সাহসে আমাদের প্রিয় নায়ককে বার বার অবধারিত মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছেন তিনি? কীভাবে জানছেন রানা সফল হতে পারবে? নিজে কখনও এমন পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছেন কী? কোন যোগ্যতায় বছরের পর বছর বিসিআই-এর চিফ এর পদে বসে আছেন? কেনই বা তাঁর অঙ্গুলিহেলনে বিনা প্রশ্নে আগুনে ঝাঁপ দেয় রানা... কেনই বা তাঁকে এত ভয় পায়?


এসব প্রশ্নের জবাব দেবার জন্যই সেবা থেকে লেখা হয়েছিল মেজর রাহাতকে নিয়ে বেশ ক’টি বই। বিসিআই চিফের যুবা বয়সের কাহিনি ওগুলো... মাসুদ রানা কার সুযোগ্য উত্তরাধিকারী, তা বুঝিয়ে দেবার প্রয়াস। সবকটি কাহিনিই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে লেখা, যেখানে রাহাত খান একক নৈপুণ্যে নসাৎ করে চলেছেন নাৎসি বাহিনীর একের পর এক যুদ্ধাভিযান বা চক্রান্ত। বিশ্বসেরা লেখকদের বিভিন্ন ওয়ার থ্রিলার থেকে অ্যাডাপ্ট করা এই কাহিনিগুলো সত্যিকার অর্থেই একেকটি মাস্টারপিস। মেজর রাহাত শিরোনামে প্রথম বইটি লেখা হয়েছিল মাসুদ রানা সিরিজে, সেটি প্রশংসিত হলেও সিরিজে মানানসই না হওয়ায় পরবর্তীতে সিরিজ বহির্ভূত উপন্যাস হিসেবে লেখা হয় দুটি বই। এরপর দীর্ঘ বিরতি নিয়ে নব্বুই দশকের শেষে শক্তিমান লেখক ইফতেখার আমিন আলাদা সিরিজ হিসেবে পাঁচটি বই লেখেন।


এই সিরিজটি শুধু রাহাত খানের অতীত কাহিনিই উপহার দেয়নি আমাদের, সেই সঙ্গে এদেশি পাঠকদের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল ওয়ার থ্রিলার নামের নতুন এক ঘরানার লেখার সঙ্গে, যা সেবায় চলমান অন্য কোনও সিরিজে অন্তর্ভূক্ত করবার উপায় ছিল না। দ্য হাইট অভ জার্ভোস বা পালের্মো অ্যামবুশের মত নামকরা বই পাঠক পড়তে পেরেছেন মেজর রাহাতের কল্যাণে। মেজর রাহাতের সফলতায় পরবর্তীতে মরণফাঁদ, বন্দীশিবির ও দক্ষিণ সাগরের মত চমৎকার ওয়ার থ্রিলারও পেয়েছেন পাঠকরা।


দুঃখের বিষয় হলো, অপার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সিরিজটি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। নিয়মিত লেখকের অভাব এর একটি প্রধান কারণ। রওশন জামিল ও নিয়াজ মোরশেদের সাহায্য নিয়ে দুটি বই লিখেছিলেন কাজী আনোয়ার হোসেন, কিন্তু এঁরা পরবর্তীতে ওয়েস্টার্ন ও কিশোর ক্লাসিকে সাফল্য পেয়ে যাওয়ায় মেজর রাহাত আর লেখেননি। আর কেউও এগিয়ে আসেননি সিরিজটি চালিয়ে যেতে। বহু বছর পর, নব্বুইয়ের দশকের শেষভাগে শক্তিমান লেখক ইফতেখার আমিন মোটামুটি আঁটঘাট বেঁধে আবার চালু করেছিলেন মেজর রাহাত সিরিজ... পাঁচটি বইও লিখেছিলেন... কিন্তু পাঠকপ্রিয়তা না পাওয়ায় বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন। ষষ্ঠ ও সপ্তম বইদুটোর বিজ্ঞাপন ছাপা হয়েছিল রহস্যপত্রিকায়, অথচ মিশন দিয়েপি বা দুর্গ অভিযান নামের সেই বইগুলো শেষ পর্যন্ত আর প্রকাশিত হয়নি। অকালমৃত্যু ঘটেছিল সম্ভাবনাময় সিরিজটির। এখন এর বইগুলোও আউট অভ প্রিণ্ট। পুরনো বইয়ের দোকানে হয়তো বা কদাচিৎ দেখা মেলে পুরনো দু-একটি কপির, ভক্তদের বুক চিরে বেরিয়ে আসে দীর্ঘশ্বাস।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধভিত্তিক থ্রিলার যারা পছন্দ করেন, কিংবা পছন্দ করেন পুরনো আমলের হলিউডি ওয়ার মুভিগুলো... তাঁরা নির্দ্বিধায় বইগুলো সংগ্রহ করে পড়ে ফেলতে পারেন। ভাল লাগবে, এ-গ্যারাণ্টি দিতে পারি।

মেজর রাহাত সিরিজের বইয়ের তালিকা
মেজর রাহাত শিরোনামে প্রথম বইটি লেখা হয়েছিল মাসুদ রানা সিরিজে, সেটি প্রশংসিত হলেও সিরিজে পুরোপুরি মানানসই না হওয়ায় সেবা প্রকাশনী কর্তৃক পরবর্তীতে এই সিরিজটি শুরু করা হয়। কাজী আনোয়ার হোসেন ছাড়াও এ সিরিজের বই লিখেছেন নিয়াজ মোরশেদ, রওশন জামিল এবং ইফতেখার আমিনদের মতো শক্তিশালী লেখকগণ।

মিশন দিয়েপি এবং দুর্গ অভিযান নামের সেই দুইটি বই ছাপা হবে বলে বিজ্ঞাপন আসলেও শেষ পর্যন্ত আর প্রকাশিত হয়নি। এ কারণে এগারো বইয়েই দূর্দান্ত সিরিজটির সমাপ্তি ঘটে।

বই নং বইয়ের নাম রচনায়
মেজর রাহাত ১‌‌‌‍ কাজী আনোয়ার হোসেন
২. মেজর রাহাত ২ কাজী আনোয়ার হোসেন
৩. স্যাবটাজ ১ নিয়াজ মোরশেদ
৪. স্যাবটাজ ২ নিয়াজ মোরশেদ
৫. দাগী আসামী ১ রওশন জামিল
৬. দাগী আসামী ২ রওশন জামিল
৭. রাত ঘনঘোর ইফতেখার আমিন
৮. শত্রুর দিনলিপি ইফতেখার আমিন
৯. ঈগলের ঘাঁটি ইফতেখার আমিন
১০. অচেনা ঘাতক ইফতেখার আমিন
১১. রেসকিউ মিশন ইফতেখার আমিন


Community content is available under CC-BY-SA unless otherwise noted.